বাংলাদেশ , রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সেই আলোর ফেরিওয়ালার এখন অসহায় অবস্থা থাকা’খাওয়ার জায়গা নেই তার

লেখক : Administrator | প্রকাশ: ২০১৯-০৭-৩১ ০৫:৪৫:৫৯

রাজশাহীতে ৩৮ বছর ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের বিনা পয়সায় পড়াশোনা শিখিয়েছেন জালাল উদ্দিন। তার এই মহৎ কার্যক্রমে ক্ষতি হওয়ার শঙ্কায় বিয়ে পর্যন্ত করেননি। এমনকি ভালো চাকরি পেয়েও প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যের সন্তানদের শিক্ষিত করতে গিয়ে নিজের পৈতৃক জমি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। সেই আলোর ফেরিওয়ালার এখন অসহায় অবস্থা, থাকা-খাওয়ার জায়গা নেই তার।

কিছুদিন অসুস্থাবস্থায় হাসপাতালে থাকার পর জালাল উদ্দিন সম্প্রতি একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন। সঙ্গে যা টাকা-পয়সা ছিলো তাও শেষ। এরপর গত ২৬ জুলাই তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে রাজশাহী প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। পরে সাংবাদিকরা তাকে আবার আবাসিক হোটেলে পাঠান। বর্তমানে তিনি নগরীর নিউমার্কেটের পাশে ওয়েহোম আবাসিক হোটেল আছেন।

জালাল উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও কোনো সনদ নেননি। দুটি বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন তিনি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি ভালো চাকরি পাওয়ার পরও তা না করে বিনা পয়সায় এই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান। বিয়ে করে সংসারী হলে এ কার্যক্রমের ক্ষতি হতে পারে ভেবে জালাল উদ্দিন বিয়েই করেননি।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                     নিজের জায়গাজমিও বিক্রি করতে হয়েছে তাঁর। বর্তমানে তার নিজের কোনো ঘরবাড়ি নেই। রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া পাড়ায় তাঁর বোনের বাসায় থাকতেন। সেখান থেকে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিনা টাকায় শিক্ষা দিয়েছেন। সাথে তাদের গান শিখিয়েছেন দেশত্ববোধক।

চার বছর আগে বাচ্চাদের জন্য পাঠশালায় বই নিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে পড়ে জালাল উদ্দিনের পা ভেঙে যায়। সেই থেকে নানা অসুস্থতা তার পিছু ছাড়েনি। শিক্ষা কার্যক্রমও আর চালাতে পারেননি। পা ভাঙার সময় প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছিল। এরপর মাস দু-এক আগে আবার তিনি অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এদিকে বোন মারা যাওয়ার পর বোনের বাসায় থাকার আর পরিবেশ নেই। তার ভাগনেরা বাইরে থাকেন। তাকে দেখভাল করার কেউ নেই। শুধু সময়মতো পানি না খেতে পেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ জন্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে এবার একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন। কাছের টাকা-পয়সা সব শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে গত ২৬ জুলাই তিনি হোটেল ছেড়ে দেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবে এসে উঠেছেন। তিনি বলছেন, রাতে সেখানেই থাকবেন। পরে সাংবাদিকরা তার ভাড়ার ব্যবস্থা করে আবার হোটেলে রেখে আসেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন