বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯

সুজন বলেন”প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার’যাদুকরী নেতৃত্বে বিদ্যুৎ বিভাগে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে

লেখক : Administrator | প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৯ ২১:৪৩:৪৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাদুকরী নেতৃতে বিদ্যুৎ বিভাগে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১২টায় বিদ্যুতের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের সমাধানের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম এর প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন’র সাথে তাঁর সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় করেন।

এ সময় সুজন বলেন, বিদ্যুৎ হচ্ছে সভ্যতার লাইফ লাইন। বিদ্যুৎ ছাড়া সব কিছুই অচল। এক সময় বিদ্যুতের দাবীতে বিদ্যুৎ অফিস ভাংচুর করা হতো। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ে নিমজ্জিত থাকতে হতো। ব্যবসা বানিজ্য, কলকারখানা ও উৎপাদন স্থবির হয়ে থাকতো বিদ্যুতের অভাবে।

শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর একক যাদুকরী নেতৃত্বে আজ সে সকল খবর নেই বললেই চলে। রেন্টাল এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা। এ কৃতিত্ব শুধুমাত্র শেখ হাসিনার। অনেক বাঁধা বিপত্তি পার হয়ে শত প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে গিয়ে শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন এগিয়ে যাচ্ছে।

ঠিক তেমনি ভাবে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিভাগও জনগনের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেজন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সকল স্তরের কর্মকতা এবং কর্মচারীদের তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তবে সম্প্রতি হঠাৎ করে নগরজুড়ে লোডশেডিং, ট্রীপ এবং সাটডাউনের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে এজন্য জনগনের দুর্ভোগ বেড়েছে যেটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তাছাড়া সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি, গড় বিল এবং লো ভোল্টেজের কারণেও গ্রাহকগণ কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। এ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে বিদ্যুতের গ্রাহক ভোগান্তি শুন্যের কোটায় নিয়ে আসার জন্য জনাব সুুজন সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এছাড়া গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গ্রাহকগণকে বৈধ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে স্পট মিটার সংযোগের কার্যক্রম পূণরায় শুরু করার অনুরোধ জানান।

তিনি দ্রুততার সাথে সারা চট্টগ্রামে অসমাপ্ত প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করে সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগনের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সহিত দায়িত পালন করার আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, সেপ্টেম্বর মাস প্রধানমন্ত্রীর জন্মমাস। নেত্রীর জন্মমাসকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ বিভাগ বর্ণিল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে বলে জনাব সুজন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিউবো’র প্রধান প্রকৌশলী প্রথমেই নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে বিদ্যুৎ ভবনে জনগনের পক্ষে মতবিনিময় করতে আসায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। আর বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আমরা সবাই হচ্ছি জনগনের সেবক। সে লক্ষ্যে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক পদক্ষেপের কারণে আজ দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসব শুরু হয়েছে যা এক কথায় অকল্পনীয়। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। যার কারণে একদিকে যেমন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং অন্যদিকে জনগনও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে। একটি দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য দরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সেটা জনগনের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।

তিনি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি এবং কর্মপরিকল্পনা নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দের নিকট উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনগুলো ছিলো অনেক পুরানো। সাবষ্টেশন ছিল অপ্রতুল। প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যেতো। গ্রাহকগণ দিনের পর দিন ট্রান্সফরমারের অভাবে ভোগান্তিতে পড়তো। বিদ্যুৎ অফিসের গোডাউনে পর্যাপ্ত পরিমান মালামাল মজুদ রয়েছে যা চাহিবা মাত্রই জনগনের নিকট সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে দুইটি বৃহৎ প্রকল্প চলমান রয়েছে যেগুলো পুরোপুরি সমাপ্ত হলে জনগন বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে শতভাগ সেবা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, প্রচুর পরিমান ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত জনগনকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আমাদের চেষ্টার কোন ত্রæটি নেই। প্রি-পেইড মিটার পুরোপুরি স্থাপিত হয়ে গেলে গ্রাহকগণ বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে তিনি মত প্রকাশ করেন।

এছাড়া তিনি বৈদ্যুতিক শর্ট সাকির্ট সৃষ্ট আগুন থেকে রক্ষা পেতে কলকারখানা, মার্কেট, বহুতল ভবন এবং বাসা বাড়ীতে মানসম্মত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ব্যবহার করার অনুরোধ জানান।

মতবিনিময় সভা শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মোনাজানত করা হয়।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মোঃ ইমাম হোসেন, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী যথাক্রমে বি.এম জাহাঙ্গীর, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ওবায়দুল ইসলাম, উপ-পরিচালক ছালেহ আহমদ, হাজী মোঃ ইলিয়াছ, সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, আব্দুর রহমান মিয়া, এজাহারুল হক, মোঃ শাহজাহান, মোঃ সেলিম, এএসএম জাহিদ হোসেন, সোলেমান সুমন, সমীর মহাজন লিটন, জাহাঙ্গীর আলম, জাইদুল ইসলাম দূর্লভ, স্বরূপ দত্ত রাজু, হাসান মোঃ মুরাদ, সরওয়ার্দী এলিন, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম. ইমরান আহমেদ ইমু প্রমূখ।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন