বাংলাদেশ , রোববার, ৭ মার্চ ২০২১

কে এই পাপিয়া যে কৌশলে সে’ক্স ভিডিও ধারণ করে প্রভাবশালীদের ব্ল্যা’কমেইল করতো

লেখক : AjKMuSbt | প্রকাশ: ২০২০-০২-২৪ ১৩:৪৮:৩৪

কে এই পাপিয়া যে কৌশলে সে’ক্স ভিডিও ধারণ করে প্রভাবশালীদের ব্ল্যা’কমেইল করতো   যুব মহিলা লীগের পদ বাগিয়ে অভিজাত এলাকায় জমজমাট নারী ব্যবসাসহ ভ’য়ঙ্কর সব অ’পরাধমূলক কর্মকান্ডে জ’ড়িত ছিলেন শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। নিজেকে পরিচয় দিতেন ক্ষমতার রাঘববোয়ালদের কর্মী হিসেবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে নেতাদের ফুল দিয়ে সেই ছবিরও অপব্যবহার করতেন তার সব খারাপ কাজে। শুধু গত এক মাসেই এই নারী রাজধানীর অভিজাত এক পাঁচ তারকা হোটেলে বিশাল অঙ্কের বিল পরিশোধ করেছেন। আর এ অর্থ খরচের কারণেই গো’য়েন্দাদের চোখ পড়ে পাপিয়ার ওপর। একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে তার সব অ’পকর্মের কাহিনি।

আলোচিত এই নারী হচ্ছেন নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাাদক। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবেও পরিচয় দিতেন। সর্বশেষ প্রচার করতেন সংরক্ষিত এমপি পদ পাচ্ছেন। কিন্তু তা না পেলেও থেমে ছিল না তার অ’পরাধমূলক কাজকর্ম।

নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন ওরফে মতি সুমনকে গ্রে’প্তারের পর তাদের সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবন সম্পর্কে অনেক তথ্য উঠে আসছে। সুনির্দিষ্ট পেশা না থাকা সত্ত্বেও তারা স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ও অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।

জানা গেছে, এই পাপিয়া হেন অ’পকর্ম নেই, যার সঙ্গে জ’ড়িত নন। পাঁচ তারকা হোটেলে নারী ও মা’দক ব্যবসাই তার আয়ের মূল উৎস। দেশের অভিজাত কিছু মানুষ ও বিদেশিরাই এর গ্রাহক। ইন্টারনেটে স্কট সার্ভিস খুলে বসে খদ্দেরদের কাছে তাদের চাহিদামতো সুন্দরী তরুণী পাঠাতেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করতেন। একপর্যায়ে তাদেরকে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করতেন পাপিয়া।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কাওরানবাজারের র‌্যা’বের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যা’ব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল।
এর আগে পা’লিয়ে দেশত্যাগ করার সময় গতকাল শনিবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রে’প্তার করে র‌্যা’ব। গ্রে’প্তার বাকিরা হলেন, পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন চৌধুরী (৩৮) এবং তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।

আ’সামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যা’ব জানায়, নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকা সত্ত্বেও খুব অল্প সময়ে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যা’ব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল জানান, আজ রাজধানীর ইন্দিরা রোডের বিলাসবহুল একটি ভবনে পাপিয়া-সুমন দম্পতির দুটি ফ্ল্যাটে অ’ভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পি’স্তল, ২০টি গু’লিসহ দুটি পি’স্তলের ম্যাগাজিন, পাঁচ বোতল দামি মদ, নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, যার বৈধ উৎস তারা দেখাতে পারেননি, তিনটি পাসপোর্ট, চেক বই, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উ’দ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া আ’সামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যা’ব জানায়, গ্রে’প্তার আ’সামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বর্তমান সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবন সমন্ধে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে আসে। তাদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকা সত্ত্বেও খুব অল্প সময়ে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তাদের ইন্দিরা রোডে দুটি ফ্ল্যাট, নরসিংদীতে দুটি ফ্ল্যাট, একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি, নরসিংদীর বাগতি এলাকায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট, এফডিসি একালাকায় কার এক্সচেঞ্জ নামে অংশীদারিত্বের অপর একটি গাড়ির ব্যবসা, যেখানে তাদের এক কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে বলে তারা জানান, নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সল্যিউশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ আছে বলেও তারা জানান।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে তাদের অ্যাকাউন্টে প্রচুর পরিমাণে অর্থ গচ্ছিত আছে বলেও তারা প্রাথমিকভাবে র‌্যা’বকে জানিয়েছেন।

র‌্যা’ব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গ্রে’প্তার আ’সামি শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী নরসিংদী এলাকায় অ’বৈধ অ’স্ত্র ও মা’দক ব্যবসা, চাঁ’দাবাজি, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্র’তারণা, জমির দালালি, সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স প্রদান, গ্যাস লাইন সংযোগ ইত্যাদির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসা’ৎ করে আসছেন।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, আ’সামিরা পু’লিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ও বংলাদেশ রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে মোট ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানায় অ’বৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকাসহ ঢাকা ও নরসিংদী এলাকায় চাঁ’দাবাজি, মা’দক ও অ’স্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অ’পরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অ’বৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল আরও জানান, এ ছাড়া আ’সামি শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর নরসিংদী এলাকায় ‘কিউ অ্যান্ড সি’ নামক একটি ক্যাডার বাহিনী আছে, যাদের মাধ্যমে তারা নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁ’দাবাজি, মাসোহারা আদায়, অ’স্ত্র ও মা’দক ব্যবসাসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সব ধরনের অন্যায় কাজের সঙ্গে জ’ড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের এই ক্যাডার বাহিনীর অনেকের নাম ইতিমধ্যে জানা গেছে, যাদের গ্রে’প্তারের লক্ষে র‌্যা’বের অ’ভিযান অব্যাহত আছে।

অনেক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ উ’দ্ধার করেছেন র‌্যা’ব কর্মকর্তারা। গো’পন ক্যামেরায় মেয়েদের সঙ্গে ধনাঢ্য ও প্রভাবশালীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাদের নিয়মিতভাবে ব্ল্যা’কমেইল করতেন তিনি। পাপিয়ার কাছ থেকে উ’দ্ধারকৃত একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়- পাপিয়া বসে আছেন বাইজিবাড়ির সর্দারনির মতো। তার হাতে মোটা একটি বেতের লা’ঠি। তার কব্জায় থাকা মেয়েরা কথা না শুনলে পে’টাতেন। পাপিয়া একাধিক অভিজাত হোটেলের রুম ভাড়া নিতেন নামে-বেনামে। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত একটি হোটেলের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটে তার নামে পাওয়া গেছে। এই পাঁচ তারকা হোটেলে বিভিন্ন মেয়েকে পাপিয়া নিজেই নিয়ে যেতেন।

পাপিয়ার সব কর্মকান্ডের অন্যতম অংশীদার তার স্বামী সুমন। একসময় নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন সুমন। পরে ছিলেন নরসিংদীর প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমানের বডিগার্ড।
শৈশব থেকেই স’ন্ত্রাস কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সুমন। ২০০১ সালে পৌরসভার কমিশনার মানিক মিয়াকে যাত্রা প্যান্ডেলে গিয়ে হ’ত্যার অভিয়োগ রয়েছে তার বি’রুদ্ধে। ওই হ’ত্যাকান্ডের এজাহারভুক্ত আ’সামি সুমন ওরফে মতি সুমন। হ’ত্যাকান্ড ও স’ন্ত্রাস কর্মকান্ডের ওপর ভর করে তার উত্থান। বছর দশেক আগে প্রেমের সম্পর্কের পর পাপিয়া চৌধুরীকে বিয়ে করেন সুমন।

লোকমান হ’ত্যাকান্ডের পর বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। মেয়রের ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বছর তিনেক পর পাপিয়া চৌধুরীর ওপর স’ন্ত্রাসী হা’মলা হয়। ওই সময় পাপিয়াকে গু’লি করে স’ন্ত্রাসীরা। এরপর তারা নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান।

পাপিয়ার স্বামী সুমন চৌধুরী বেশির ভাগ সময় থাইল্যান্ডে অবস্থান করলেও গত থার্টিফার্স্ট নাইটে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করেন। ওই রাতে তার কক্ষেও চার-পাঁচ জন সুন্দরী নারী ছিল বলে তথ্য রয়েছে গো’য়েন্দাদের কাছে

Print Friendly, PDF & Email