বাংলাদেশ , শনিবার, ৬ জুন ২০২০

ভূরুঙ্গামারী সোনালী ব্যাংক মুক্ত ভবনে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিলেন ইউএনও

লেখক : AjKMuSbt | প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১১:৪২:৪৬

রুঙ্গামারী সোনালী ব্যাংক মুক্ত ভবনে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিলেন ইউএনও মাঈদুল ইসলাম মুকুল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনাকালে অর্থনৈতিক বিপর্যয় রুখতে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত চালু রেখেছে সরকার।

 

সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক ও দৈহিক দূরত্বসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার শর্ত থাকলেও সোনালী ব্যাংক কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী শাখায় এসবের বালাই নেই। জায়গার অতি সংকীর্ণতা এবং জনাধিক্যের অতিরিক্ত চাপে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি চরমভাবে ভেঙ্গে পড়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ইতোমধ্যেই সংক্রমিত এ অঞ্চলটি। ১০ মে, রবিবার দুপুরে সরেজমিনে সোনালী ব্যাংকের ভূরুঙ্গামারী শাখায় গেলে জনসমাগমের এক ভয়ানক চিত্র দেখা যায়।

 

ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক মানুষকে এসময় বাংকের সামনের রাস্তায় জটলা করতে দেখা যায়। আবার অনেক গ্রাহক ব্যাংকে না ঢুকেই বাড়ি ফিরে গেছেন বলেও জানা গেছে। বাইরে অপেক্ষমাণ গ্রাহকরা জানান, জনঘনত্ব কমাতে জনপরিবহন, দোকানপাট, স্কুল, কলেজ, আদালতসহ অনেক কিছুই বন্ধ রাখা হয়েছে। হাট বাজার খোলা জায়গায় সরিয়ে নিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো হয়েছে।

 

কিন্তু এলাকায় করোনা সংক্রমণ সনাক্ত হওয়ার পরেও ব্যাংকে উপচে পড়া ভিড় নিয়ে প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই। তাদের অনেকেই আশংকা প্রকাশ করে বলেন, এখনই ব্যাবস্থা না নিলে সোনালী ব্যাংক হতে পারে ভূরুঙ্গামারীতে করোনা সংক্রমণের উর্বর ক্ষেত্র।

 

সোনালী ব্যাংক, ভূরুঙ্গামারী শাখার ব্যবস্থাপক আবুল কালাম মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এমনিতেই আমাদের জায়গা অনেক কম তার মধ্যে ব্যাংকের কর্মঘন্টা কমিয়ে দেওয়ায় সকল গ্রাহক একযোগে ভীড় করছে। উপজেলার সমস্ত শিক্ষকদের বিল, পেনশন ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বৃদ্ধভাতাসহ অন্যান্য চাপ একযোগে সোনালী ব্যাংকের উপর।

 

সামনে আবার ঈদ। সঙ্গত কারণে সামনের দিনগুলোতে এ ভীড় আরো বাড়বে। গ্রাহকদের অতিঘনত্বের কাছে আমাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে। আমরা অসহায়। তিনি আরো বলেন, জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে ইতোপূর্বে দুইজন আনসার নিয়োগ দেয়া হয়েছিল কিন্তু গ্রাহকদের অনেকেই তাদের উপর একযোগে চড়াও হওয়ায় সেটি থেকে আমরা সরে আসতে বাধ্য হয়েছি।

 

একযোগে এতো লোকের দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা বা তাদের জন্য হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করাও অসম্ভব। আমাদের অসহায়ত্বের বিষয়টি প্রশাসন ভালো করেই জানে। প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরুজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই সেখানে দুইজন আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

তাঁরা চাইলে সেখানে আরো আনসার নিয়োগ করা যেতে পারে। অতি সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে পুলিশ বা আনসার দিয়ে জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ কিভাবে সম্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাইলে এই শাখাটি বড় কোন ভবনে স্থানান্তরিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে নবনির্মিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি তাঁরা শর্তসাপেক্ষে ভাড়া নিয়ে ব্যাবহার করতে পারেন।

 

এক্ষেত্রে তিনি সর্বাত্বক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে মতামত জানতে সোনালী ব্যাংক,ভূরুঙ্গামারী শাখার ব্যাবস্থাপককে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ব্যাংকের কার্যক্রম স্থানান্তর একটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন