বাংলাদেশ , রোববার, ৫ জুলাই ২০২০

কঠোর লকডাউন পরিস্থিতির অবনতি হলেই প্রধান’মন্ত্রী

লেখক : AjKMuSbt | প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩০ ১৮:৪০:২৬

আগা’মী ৩১ মে সব কিছু খুলে দেওয়ার পর সরকার সবকিছু পর্য’বে’ক্ষণ করবে। যদি দেখা যায় যে, করোনা পরি’স্থিতির অব’নতি হচ্ছে, তাহলে আবার সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে এবার ছুটি নয়, সরকা’র কঠোর ল’কডাউন করবে, যেখানে মানুষের সব ধরণের চলাচলের উপর নিষে’ধাজ্ঞা আ’রোপ করা হবে।

 

আজ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণা’লয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ সি’দ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের একটি দায়ি’ত্বশীল সূত্র এই তথ্য নি’শ্চিত করেছে।গণভ’বনে প্রধা’নমন্ত্রীর সভাপ’তিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্বাস্থ্য’মন্ত্রী জাহিদ মালেক,

 

বিদায়ী স্বাস্থ্য’সচিব আ’সাদুল ইসলাম, করোনা মোকা’বেলা সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সভাপতি অধ্যা’পক ডা. শহিদুল্লাহ, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মাহমুদু’ হাসান এবং ক’মিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বৈঠকে প্রধানম’ন্ত্রীর মুখ্য সচিব ডা. আহ’মেদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আ’বদুল্লাহ এবং

 

 

প্রধানম’ন্ত্রীর সচিব তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপ’স্থিত ছিলেন।এই বৈঠকে প্রধান’মন্ত্রী সুস্পষ্ট’ভাবে দশ দফা নি’র্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আমরা স’বকিছু খুলে দিয়েছি, তার মানে এই না যে সবকিছু এইভাবে চলতে থাকবে। যদি পরি’স্থিতি খা’রাপ হয়, যদি জন’স্বা’স্থ্যের জন্য যদি নতুন করে হুম’কি সৃষ্টি হয় তা’হলে অবশ্যই আবার লক’ডাউন দেও’য়া হবে এবং সেই ব্য’বস্থা সরকা’র যে’কোন সময় নিতে পারে।

 

‘তবে প্রধান’মন্ত্রী মনে করেন যে, আগে যে সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছিল, সেই ছুটিতে মানুষ স্বা’স্থ্যবিধি মানেনি এবং যেভাবে সামাজিক দূরত্ব ব’জার রাখা’র দরকার ছিল সে ব্যাপারে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব ছিল। প্রধা’নমন্ত্রী এই বৈঠকে দশ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠকসূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। সবকিছু খুলে দেওয়ার পর এই দশ দফা নির্দেশনা প্রতি’পালনে’র উপর গুরু’ত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যে নির্দে’শনাগু’লো প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তার ম’ধ্যে রয়েছে-

 

১. স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবেঃ

যারা বের হবে তা’দেরকে অব’শ্যই মাস্ক-গ্লোভস পরতে হবে এবং অফি’স-আদাল’তগুলোতে পরি’ষ্কার-পরিচ্ছ’ন্নতার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সাবান এবং পানি রাখতে’ হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে স্বাস্থ্যবি’ধি’গুলো দিয়েছে সে’গুলো যেন প্রতিপালিত হয়, তা নজরদারির মধ্যে আনতে হবে।

 

২. সভা-সমাবেশ, জমায়েত হবে না

এখনই কোন ধ’রনের সভা-সমাবেশ, জমা’য়েত, পূণর্মিল’নী বা অনেক মানুষ জমায়েত হতে পারে এ ধ’রনের কোনো সামাজি’ক অনুষ্ঠা’ন করা যাবে না।

 

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে

আপা’তত শিক্ষা-প্রতি’ষ্ঠান খোলা হবে না। পরিস্থি’তি স্বাভা’বিক হওয়ার পর এই ব্যাপারে সি’দ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

৪. অযথা পরী’ক্ষা নয়

দেখা যাচ্ছে যে, করো’না পরী’ক্ষায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অযথা পরী’ক্ষা ক’রাচ্ছেন এবং এই পরীক্ষার ফলে টে’স্টিং কি’টের উ’পর চাপ বাড়ছে। এজন্য যাদে’র শুধু উ’পস’র্গ আছে, শুধু তাদের পরীক্ষার নির্দেশ’না দিয়ে’ছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

৫. হাসপাতালের উপর চাপ কমাতে হবে

মৃদু উপ’সর্গ যাদে’র আছে তারা যেন হাসপা’তালে ভর্তি না হন, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণা’লয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহ’ণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অধি’কাংশ রোগী মৃদু উপস’র্গের চিকিৎসা বাড়িতেই করছে। কা’জেই জটিল রোগী ছাড়া হাসপাতালে যেন কেউ ভর্তি না হয় সে ব্যাপারে সত’র্কতা অব’লম্বনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

৬. স’চেতনতা বা’ড়াতে হবে

আমা’দের গ্রাম পর্যায় পর্য’ন্ত সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং এই সচে’তনতা বা’ড়ানোর জন্য স্থানীয় জনপ্রতি’নিধিদের’কে সম্পৃ’ক্ত করার নির্দেশ দি’য়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

৭. বেসর’কারি হাসপা’তালের ব্য’বসা বন্ধ করতে হবে

করোনা চিকিৎসা বিনামূল্যে দিচ্ছে সরকার এবং এজন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। কাজেই বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেন করো’না চিকিৎসার নামে ব্যবসা না করে সেটি কঠোর’ভাবে নি’য়ন্ত্রণ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্র’ণাল’য়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

৮. গণপ’রিবহন ম’নিটরিং করতে হবে

গণপ’রিবহনগুলোর ব্যাপারে যে নির্দেশনা দিয়েছে যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রা’খা ইত্যাদি নির্দেশ’নাগুলো যেন প্রতিপালিত হয় সে ব্যাপারে মনি’টরিং করতে হবে।

 

৯. গবেষণা বাড়াতে হবে

সামা’জিক সংক্র’মণ যেভাবে বি’স্তৃত হয়েছে, সেই বিস্তৃতির প্রেক্ষিতে যে স্থানগুলো’তে বেশি সংক্র’মণ হচ্ছে, যে স্থানগুলো’তে আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা বেশি সেই জা’য়গা’গুলোতে স্বাস্থ্য’বিধি মানা, সামাজি’ক দূরত্ব নি’শ্চিত করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

১০. নিয়মিত পরিস্থিতি ম’নিটরিং করতে হবে

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়’কে নিয়মিত ক’রোনা পরিস্থিতি মনিটরিং করতে হবে এবং পরিস্থিতি যখনই অব’নতি হবে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রধান’মন্ত্রীর কার্যা’লয়কে অবহিত করতে হবে এবং প্রধান’মন্ত্রীর কার্যালয় তার ভি’ত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ৩০-০৫-২০২০ ইং

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন