বাংলাদেশ , রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

নাগরপুরে বেইলি ব্রীজগুলো একেকটি মৃত্যু ফাঁদ নাগরপুর

লেখক : AjKMuSbt | প্রকাশ: ২০২০-১১-১৭ ০৮:১২:৩৫

(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ নাগরপুর-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০টি বেইলি সেতুর সবই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।                                                                                                                                                                                                                আর এতে সেতুগুলোর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই।

বেইলি সেতুগুলোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং রাস্তাটি প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবি। জানা গেছে, ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নাগরপুর-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কটির ১২ কিলোমিটার পড়েছে নাগরপুর উপজেলা অংশে। বাকি ১৬ কিলোমিটার মানিকগঞ্জ জেলায়।

নাগরপুর অংশে এলাসিন শামছুল হক সেতু থেকে সড়কটি শুরু হয়ে নাগরপুর উপজেলা সদর এবং মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও ঘিওর উপজেলা সদর হয়ে বরাংগাইল নামক স্থানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মিশেছে।

এ সড়কটি নির্মাণের সময় দুই দশক আগে নাগরপুর অংশেই ১০টি বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়।                                   এগুলো হচ্ছে নাগরপুর উপজেলার খোরশেদ মার্কেট, ধলামাড়া, থানা মোড়, বারাপুষা, ভালকুটিয়া, তিরছা, টেংরীপাড়া, আড়রাকুমোদ, ধুবুড়িয়া ও চাষাভাদ্রা।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন কয়েকশ’ সিএনজি চালিত অটোরিকশা নাগরপুর-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল করে। এছাড়া নাগরপুরে ব্যাপক ইটভাটা নির্মাণ হওয়ায় ট্রলি-ট্রাক্টরসহ অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি বেইলি সেতুর কারণে এ সড়কটিতে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে লাখ লাখ মানুষ।             বেইলি সেতুগুলোর অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রতিটি সেতুর সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সাবধানে পারাপার’ হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে স্থায়ী/অস্থায়ী সাইন বোর্ড টাঙ্গানো ছিল কিন্তু সেগুলো এখন খুব একটা চোখে পড়ছে না

। ফলে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। এছাড়া প্রতিটি বেইলি সেতুর স্টিলের পাটাতন ক্ষয় হয়ে গেছে, কিছু কিছু সেতুর পাটাতন ভেঙ্গে গেছে। পথচারীরা জানান, গত বছর ট্রাক আটকে গিয়েছিল পাটাতনে। পরে সেতু মেরামত করা হয়।

মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন প্রায়ই পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেতুগুলোতে ভারি যানবাহন উঠলেই কেঁপে উঠে, মনে হয় এই বুঝি ভেঙ্গে পড়ল।                                                                                           এর আগেও বেশ কয়েকবার সেতু ভেঙ্গে বড় গাড়ি নিচে পড়ে গেছে। এ রকম দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। দশ-বার দিন যান চলাচল বন্ধ থেকেছে। এসব সেতুর কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

সিএনজি চালকরা বলেন, যখন বড় কোন পণ্যবাহী ট্রাক সেতুতে উঠে তখন আমরা অপেক্ষা করি। কারণ সেতু তখন দুলতে থাকে। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে আমরা প্রতিদিন গাড়ি চালাই। তিনি অতিসত্বর এই রোড়ে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, সব কটি বেইলী ব্রীজই অনেক পুরাতন।

এ বিষয়ে উর্ধ্বতনদের অবহিত করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email