কিডনিসহ দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানির সময় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এক নাটকীয় ঘটনার সৃষ্টি হয়। ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়াই কিডনি রোগের সফল চিকিৎসক বলে নিজেকে দাবি করেন সালাউদ্দিন মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি। আদালতে উপস্থিত সবার সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানিকালে এমন দাবি করেন এই ব্যক্তি।
আদালতে শুনানিকালে আইনজীবীদের বক্তব্যে কিডনির ব্যয়বহুল চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিষয় বিস্তারিত উঠে আসে।
মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ও বিধি প্রণয়ন সংক্রান্ত এক রিটে কিডনি ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের শুনানির শেষ দিকে কোর্ট রুমের পেছনের সারির বেঞ্চ থেকে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি কিছু বলতে চাই।’
এরপর তিনি আদালতের ডায়াসের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলেন, ‘মাই লর্ড, কিডনি চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপন কিছুরই দরকার নেই। আমি আমার ২০ বছরের গবেষণার মাধ্যমে কিডনি চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সফলতা আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছি।’
এরপর আদালত তাকে বলেন, ‘আপনাকে তো আমরা মামলার বিষয়ে এখানে ডাকিনি। আর আপনি কী বলছেন? আপনি কেমিস্ট্রিতে লেখাপড়া শেষ করে কিডনি চিকিৎসা করেন?
এরপর আদালতে সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমার কাছে হাজার হাজার কিডনি রোগী এসে ভালো হয়েছে। ডায়ালাইসিসের রোগী এসে ভালো হয়েছে, তাদের আর কখনোই ডায়ালাইসিস লাগেনি। এমনকি আমার কাছে একবার যে চিকিৎসা করেছ তার জীবনে আর কখনোই কিডনির সমস্যাই হয়নি বলে দাবি করেন এই ব্যক্তি।
তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবী, সমাজের বড় বড় ব্যক্তি, এমনকি রওশন এরশাদও তার কাছ থেকে কিডনির চিকিৎসা নিয়েছেন।
এসময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সবার মাঝে একটা কৌতূহলী আর হাস্যকর অনুভূতির তৈরি হয়। তবে, আদালত কক্ষে চলা এরকম অদ্ভূত প্রেক্ষাপটকে যেন নাটকীয়তায় রূপ দেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সিরাজুল আলম ভূঁইয়া।
এই আইনজীবী দাঁড়িয়ে বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, ’মাই লর্ড, আমার এক নিকট আত্মীয় ওনার ভেষজ ওষুধ খেয়ে কিডনি রোগ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মুখ থেকে এ কথার শোনার পর যেন পুরো আদালত কক্ষ স্তম্ভিত।
আদালত এসময় আইনজীবী সিরাজুল আলম ভূঁইয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি ঠিক বলছেন? আপনার আত্মীয় সুস্থ হয়েছেন উনার ওষুধ খেয়ে? এর জবাবে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘মাই লর্ড, আমার আত্মীয় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন। এবং তার আর এখন কিডনির সমস্যা নেই।’ তখন আদালত বলেন, ‘তাহলে তো একে পুরস্কার দেয়া উচিত। একে তো সরকারের প্রমোট করা উচিত। যদি তার এই চিকিৎসা পদ্ধতি সঠিক হয়, তাহলে তো এটা একটা বিস্ময়।’
এ পর্যায়ে কিডনি চিকিৎসক দাবি করা সালাউদ্দিন মাহমুদ আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড, আমার ব্যাপারে খোঁজ নিতে পারেন। আমার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে খোঁজ নিতে পারেন। আপনারা দেখতে পারেন যে, আমার চিকিৎসায় কিডনি রোগী সুস্থ হয় কি না। আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি, শেষ মুহূর্তে থাকা কোনো কিডনি রোগীও যদি আমার চিকিৎসা নেয় তাহলে সে পরিপূর্ণ সুস্থ হবেন।’
এরপর হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেন, ‘সালাউদ্দিন মাহমুদের বিষয়টি নিয়ে আপনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সত্যিই যদি কিডনি চিকিৎসায় ওনার কোনো সফল আবিষ্কার থেকে থাকে তাহলে তো উনি প্রশংসার দাবিদার।’